নির্ধারিত সময়ে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা

নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিদেশী শ্রমিক জটিলতা ও বন্দর দিয়ে নির্মাণসামগ্রী আমদানি সহজ হয়ে এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

দেশের অন্যান্য মেগা প্রকল্পের মতো কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজেও ব্যাঘাত ঘটায় কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব। তবে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিক থেকে এ প্রকল্পই এগিয়ে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানালেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। এছাড়া প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করতে হলে এ মুহূর্তে বিদেশী শ্রমিকসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করাটাও জরুরি।

প্রকল্পের সর্বশেষ তথ্য বলছে, সর্বশেষ মে মাসে প্রকল্পটির অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর বিপরীতে অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। চলতি জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজের সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ শতাংশ। যদিও মাস শুরুর আগেই প্রকল্পের ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রগতি নিশ্চিত করা গিয়েছে। সে হিসেবে মে মাসের গতি জুনে অব্যাহত থাকলে প্রাক্কলনের চেয়েও এগিয়ে থাকছে প্রকল্পটি। বিষয়টি বিবেচনায় দেশের চলমান অন্যান্য মেগা প্রকল্পের তুলনায় টানেলের নির্মাণকাজের অগ্রগতিকে ঈর্ষণীয় বলা চলে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

তবে এর মধ্যেও আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে বন্দর থেকে নির্মাণসামগ্রী আনার কাজের দীর্ঘসূত্রতা। প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জুন চীন থেকে টানেল নির্মাণের সেগমেন্ট নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। এরপর ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও জাহাজটি বন্দর জেটিতে বার্থিং হয়নি। এরপর জরুরি ভিত্তিতে চিঠি দেয়া হলে জাহাজ থেকে টানেলের মালপত্র খালাসে অগ্রাধিকার দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কয়েক দিনের মধ্যে এসব পণ্য খালাস হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছতে পারবে বলে মনে করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

এছাড়া ১৮ জুন আরো একটি জাহাজ চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। বন্দর দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালপত্র পৌঁছতে না পারলে কাজের অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা  বলেন, কভিডের সংক্রমণসহ বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটেও মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পের চেয়েও টানেল নির্মাণ প্রকল্প অনেক এগিয়ে রয়েছে। মূলত নদীর তলদেশে স্বয়ংক্রিয় নির্মাণকাজ ও নদীশাসনের মতো জটিলতা না থাকায় প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলীরা জানান, বর্তমানে বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলেও কভিড সংক্রমণের শুরুর দিকে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প জটিলতায় পড়ে। শ্রমিক সংকটে ২০২০ সালের প্রথমার্ধে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। মহামারীর কারণে বিদেশী শ্রমিকদের আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সময় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি কমে যায়। প্রকল্পটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জন দেশী শ্রমিক কাজ করলেও সাধারণ ছুটির সময় শ্রমিকের দৈনিক গড় সংখ্যা নেমে এসেছিল ২০০-২৫০-এ। প্রকল্পটিতে শুরুতে চীনা নাগরিক কর্মরত ছিলেন ২৯৩ জন। পরে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিসিসি লিমিটেড আরো ৮৭ জন চীনা নাগরিককে প্রকল্পের কাজে যুক্ত করতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে চীনে সেখানকার নাগরিকদের দেশে পৌঁছার পর ১৪ দিন করে দুই দফায় ২৮ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে চীনা কর্মীদের মধ্যেও এখন দেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কম। এসব কারণেই এখন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্রুতগতিতে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

২০১৫ সালে হাতে নেয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন রয়েছে ৪ হাজার ৪৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে চীন সরকার।

জানতে চাইলে মাল্টি লেন কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক না হলেও সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প। নির্মাণে এখন পর্যন্ত প্রাক্কলনের চেয়েও এগিয়ে রয়েছি আমরা। তবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি, বন্দর দিয়ে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহের জটিলতার কারণে ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা চেষ্টা করছে।

মেগা প্রকল্পটির কাজের দ্রুত অগ্রগতির পেছনে সরকারি ও দাতা সংস্থার অর্থছাড় প্রক্রিয়াও কাজ করেছে বলে মনে করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্পের এডিপি বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতের ৬৫০ কোটি ও প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেয়া হয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মে পর্যন্ত প্রকল্পের এডিপি বরাদ্দের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৯৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ বা ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ টাকা। সূত্র-বণিক বার্তা

The post নির্ধারিত সময়ে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.

Comments

Popular posts from this blog

আইপিএলসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি

ঈদুল ফিতরে বেপরোয়া অটোরিকশা: খোকসায় দুর্ঘটনায় আহত ২: প্রতিকার চায় স্থানীয়রা

সৌদি রিয়াল রেট বিনিময় হারের বিশাল লম্বা লাফ ( ৩ এপ্রিল ২০২৫)

নীলফামারীতে ঈদের পরে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরলস পরিশ্রম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বনাম মানুষের কাজ: চাকরি হারাতে পারে যারা

বাংলাদেশে আজ ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম (২৭ মার্চ ২০২৫)

সৌদি রিয়াল রেট বিনিময় হারের বিশাল পতন (৩১ মার্চ ২০২৫)

৩ মে ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আজ ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম (৩১ মার্চ ২০২৫)

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ সমিতি, তালা, সাতক্ষীরা-এর উদ্যোগে একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত