বাবা আমাকে পানি খাওয়ান, পরানডা বারাইয়া যায়
সুজন কৈরী: রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস গেট এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু পথযাত্রী আহত এক বৃদ্ধের আবেদন বাবা আমাকে বাঁচান , আমাকে একটু পানি খাওয়ান।
সারা শরীরে রক্ত, মনে হচ্ছে রক্ত সাগরে মাত্র ই ডুব দিয়ে উঠেছেন। আমি সত্যি খুব ভয় পেয়ে গেলাম কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। লোকটার একটি হাত আমি ধরলাম এবং পাশেই একটা বেসরকারি হাসপাতাল সেদিকে ছুটলাম, লোকটা হাঁটতে পারছেনা হাঁটু ভেঙ্গে বসে পরে বলল “বাবা আমাকে পানি খাওয়ান পরানডা বারাইয়া যায়”।
বৃদ্ধের এই আর্তনাতে আমি সত্যি র্নিবোধ হতোবাগ হয় কোথায় পাব পানি ভেবে পাচ্ছি না। এরকম অবস্থায় তাকে ফেলে আমি যেতেও পারছি না। হঠাৎ আরও তিন চার জন মানুষ ছুটে আসলে আমিও চিৎকার করে আবেদন করা শুরু করলাম যে পানি পানি পানি তবে কেউ পানি নিয়ে আসছে না।
তখন আমার মনে পরে দোকানে পানি পাব কিছুদূর দৌড়ে গিয়ে একটি দোকান থেকে আধা লিটার পানির বোতল নিয়ে আসলাম, বোতলের মুখ খুলে আমি পানিটা খাওয়ালাম আহত ওই বৃদ্ধকে।
পুরো পানি খেয়ে বৃদ্ধ বলে উঠল, আল্লাহ তোমার ভাল করুক বাজান। আমি সকলের নিকট আবেদন করতে লাগলাম সবাই ধরাধরি করে একটু হাসপাতালের দিকে নিয়ে চলেন। এর মধ্যেই তিন চার জন পুলিশ এসে লোকটিকে হাতে হাত ধরে হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেল। আমিও পেছনে পিছনে ছুটলাম।
যতোক্ষণ পর্যন্ত আমি সাথে ছিলাম ততোক্ষণ পর্যন্ত অনবরত সারা শরীর থেকে স্রোতধারার মতোই রক্ত পারছিল। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না। পুলিশ সদস্য যখন তাকে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে নিয়ে গেলেন। তখন সেখানে আরও বিশ পঁচিশ এরকম রোগী ছিলো। তবে এর দশ পনেরো মিনিট পরে সব কিছুই শেষ। সবাই ধরাধরি করে ঐ বৃদ্ধকে একটি সিএনজিতে করে ঢামেক নিয়ে গেল।
মগবাজারের বিস্ফোরণে আহত একজনকে উদ্ধারের গল্প এভাবেই বর্ণনা করলেন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের কমিউনিটি প্যারামেডিক নয়ন ওঝা।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ১০-১৫ মিনিট আগে আমি বিশাল সেন্টারের নিচে ছিলাম। মার্কেটের নিচে একটি টেইলার্সের দোকানে প্যান্ট বানাতে দিয়েছিলাম। সেটি নিতেই গিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা নিতে ভুলে যাই। পরে টাকা আনতে সোনালীবাগের বাসায় যাই। বাসায় পৌঁছার মিনিট খানেক পরই বিকট শব্দে কিছু একটা বিস্ফোরণের শব্দ পাই। বাসা থেকে বের হলে লোকজনকে ছুটোছুটি করতে দেখি। এর মধ্যে ওই বৃদ্ধকেও দেখতে পাই। তার আকুতিতে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি নাই। চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি। যা আমার জন্য খুবই কস্টের।
উল্লেখ্য, রোববার (২৭ জুন) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থলের আশপাশের সাতটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছেন মোট সাতজন।
The post বাবা আমাকে পানি খাওয়ান, পরানডা বারাইয়া যায় appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment