[১] রাউজান পশ্চিম ডাবুয়ায় পরিত্যক্ত ভৈরব সওদাগরের জমিদার বাড়ি
শাহাদাত হোসেন: [২] রাউজান উপজেলার ২নম্বর ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়া গ্রামে অবস্থিত ভৈরব চন্দ্র পাল সওদাগরের দেড়’শ বছরের পুরানো জমিদার বাড়ি। বর্তমানে জমিদার বাড়ীটি ঝোপ-জঙ্গলে ভরপুর হয়ে ভুতুড়ে বাড়ীতে পরিণত হয়েছে আছে। চুন-সুরকি, ইটের গাঁথুনির তৈরি দ্বিতল এ বিশাল জমিদার বাড়িতে একসময় চলতো জমিদার শাসন। এখন আর সেই শাসন নেই, আছে শুধু পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িটি। জমিদার বাড়ির চারপাশের দেওয়ালগুলোতে নানা ধরনের লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। এই বিশাল জমিদার বাড়িটি অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে।
[৩] পরিত্যক্ত হয়ে থাকা এই বাড়িটি জমিদার ভৈরব চন্দ্র পাল সওদাগরের বাড়ি হিসাবে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে এক প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন তিনি।
[৪] সরজিমনে ঘুরে দেখা গেছে, জমিদার বাড়ির পেছনে বিশাল পুকুর আর রাজকীয় পাকা ঘাট রয়েছে, বাড়ির সামনে আছে বিশাল দিঘি ও রাজকীয় ঘাট। দিঘি পার্শ্বে রয়েছে পুরানো একটি শিব মন্দির। এই মন্দিরটি সংস্কার করে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন। সেখানে প্রতিদিন পূজা ও প্রার্থণা চলে।
[৫] দিঘির দক্ষিণ পাড়ে ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির নাম মধ্যম সর্তা রামসেবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
[৬] স্থানীয় বৃদ্ধ সমীর পাল জানায়, এক সময় এই জমিদার জমিদার বাড়ির সামনে বড় জায়গায় বসতো মেলা। এক নামে পরিচিত ভৈরব সওদাগরের মেলা। জমিদার বাড়ির ভিত্তরে প্রতি রাতে বসতো নাচ গানের আসর। বছর বছর হতো রাজপূণ্যাহ উৎসব। কিন্তু কালক্রমে হারিয়ে গেছে এসব উৎসব। বিলুপ্তি পথে ঝোপ-জঙ্গলের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা জমিদার বাড়িটি। যেখানে ভৈরব সওদাগরের মেলা বসতো সেখানে এখন কলাবাগানে পরিণত হয়েছে।
[৭] স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিদার ভৈরব চন্দ্র পাল ছিলেন ব্রিটিশ শাসনামলে প্রভাবশালী একজন ব্যবসায়ী ও জমিদার। তিনি ছিলেন মূলত সে যুগের বার্মার একজন বড় ব্যবসায়ী। রাউজানের ডাবুয়া, হলদিয়া, চিকদাইর ও ফটিকছড়ি খিরামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভৈরব চন্দ্র পাল সওদাগরের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। তবে ভৈরব চন্দ্র পাল সওদাগরের বংশধররা বহু আগে ভারতে চলে গেছেন। সম্পাদনা: হ্যাপি
The post [১] রাউজান পশ্চিম ডাবুয়ায় পরিত্যক্ত ভৈরব সওদাগরের জমিদার বাড়ি appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment