আহমেদ কিশোর: জামিন বিড়ি
আহমেদ কিশোর: কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কোয়ারান্টাইন এর সময় আমাদের কাছে মানে আমার আর মুশতাক ভাইয়ের কাছে কোন টাকা পয়সা ছিলনা। প্রায় মাসখানেক পরে দু’হাজার টাকা আসে। আমরা এক প্যাকেট হলিউড আর এক কার্টন আবুল বিড়ি কিনে ভাগ করে টানি। সরকার আমাদের ততদিনে আবুল বলে স্বীকৃতি দিয়েছে!
তার আগে কোয়ারান্টাইন এর সেবক জাহিদের কাছে বিড়ি চেয়ে খেতাম। জাহিদ অপলক চেয়ে থাকতে পারে। জাহিদের কাছে প্রায় বিড়ি পেলেও লাইটার পাওয়া যেতনা। এসময় একটা বিশ টাকার লাইটার একশো টাকায় কেনার কথা চিন্তাও করতে পারতাম না। বিড়ি হাতে সেলের ফাঁক গলিয়ে কারো উদ্দেশ্যে আগুন, ভাই একটু আগুন দ্যান বলে চিৎকার করতাম। মাঝে মাঝে গভীর রাতে আগুন চাইলে,আশেপাশের সেল থেকে কোরাস হতো-আগুন দে,আগুন দে! একটু আগুনের জন্য সামনের সেলে বিড়ি ছুড়ে দিতাম, সে শালারা তা ধরিয়ে দু’টান দিয়ে আবার এপাশে ছুড়ে দিতো।
স্যান্ডেল হাতে ধরে,সেলের গারদের ফাঁকে দিয়ে বহু কায়দা করে সেই আগুন সহ বিড়ি টুকিয়ে সেল এ আনার পর প্রথমে দিতাম মুশতাক ভাইকে। বিড়ির পুটকি টানতাম আমি।
জেলখানার অর্থনীতি তে বিড়ি,সিগারেট বিনিময়ের এক স্বীকৃত মাধ্যম।
আবুল, আকিজ বিড়ি হরদম চলে।
কারাগারে যেয়ে বুঝতে পারি ব্র্যান্ডিং এর সেন্স পুরোটাই আবেগের বিষয়। নিকোটিনের নিউরোটক্সিন ব্র্যান্ড চেনেনা। সব ফালতু।
আমাদের শরীর নিঃসঙ্গতায়,অসহায়ত্বে নিজেকে পোড়াতে চাইতো।
আমি রাতে ঘুমাতে পারতাম না। মুশতাক ভাই অনায়াসে ঘুমিয়ে যেতেন।
আমি রাত জেগে বিড়ির প্যাকেটে এক বিড়ির ছবি আঁকি। তার প্যাকেটে মালিকের চেহারার জায়গায় মুশতাক ভাইয়ের তখনকার লালনের মতো ঝুটি বাধা মুখটাকে বসিয়ে দেই।
বিড়ির ট্যাগ বা পে অফ লাইন দেই-প্রতিটানে জামিনের স্বাদ।
প্যাকেট ফুড়ে মুশতাক ভাই বেরিয়ে এসেছেন জামিনে,বিড়ি টানছেন আনন্দে।
ভাইয়া,ভাবীকে দেখাবার জন্য কারাগারের স্যুভেনির হিসেবে অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে দু’প্যাকেট আবুল আর আকিজ বিড়ি রেখেছিলেন সযত্নে।
সেগুলো ফিরে পেতে রাষ্ট্র আজও অনুমতি দেয়নি। (ফেইসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত)
The post আহমেদ কিশোর: জামিন বিড়ি appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment