আরিফুজ্জামান তুহিন: কেন মিয়া খলিফা বেশি গুরুত্বপূর্ণ শচীন থেকে!
আরিফুজ্জামান তুহিন: দিল্লির রাস্তায় যখন কৃষকেরা তিনটি আইন বাতিলের দাবিতে অবস্থান নিয়ে কাতারে কাতার মারা যাচ্ছেন, তখন ভারতের প্রাণ শচীন টেন্ডুলকার টুইট করে কৃষকদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। শচীন বলছেন, ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোস করা যায় না। বহির্শক্তি দর্শক হতে পারে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অংশ নিতে পারে না। ভারতীয়রা ভারতকে জানেন এবং ভারতের জন্য তাদেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। চলুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। শুধু শচীন না, একইরকম টুইট করেছেন রবি শাস্ত্রি, গৌতম গম্ভীর, অনিল কুমলে, সুরেশ রায়না বা কঙ্গনা রানউতের মতো সেলেবরা। তাদের উস্মার কারণ কী? কারণ হলো পর্নোস্টার মিয়া খলিফা, রকস্টার রিহানা, জলবায়ু আন্দোলন নেতা গ্রেথা থুনবার্গ, কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো ভারতের কৃষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
শচীন ও তার সতীর্থদের টুইটের সোজা অর্থ হলো, কৃষকরা বহিরাগত, তারা পাকিস্তানি না হয় চীনা টাকায় এসব করছে। তারা মাওবাদী, তারা কেউ কেউ খালিস্তানপন্থী। ফলে এই টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের কারণে ভারতে হিন্দুরা কস্টে আছে, ভারত কস্টে আছে। এটা পলিটিক্যাল অবস্থান। এই রাজনৈতিক অবস্থান একটি দেশের প্রান্তিক কৃষকের বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। অথচ সেলেবদের সব থেকে বড় ভিত হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন। সাধারণ মানুষের সমর্থন বেঁচে এই সেলেবরা শত কোটি টাকা বানালেও তারা সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে না। দেখবেন বাংলাদেশে কোনো সেলেব সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে না। বরং তারা চট্টগ্রামে গিয়ে বলবে, এই শহরের রাস্তাঘাট বিদেশের মতো। অথচ যখনই বৃষ্টি হয় তখন আমরা জানবো, চট্টগ্রামের রাস্তার নিচে ডলফিন জঙ্গলের মতো। এর কারণ কী? কারণ হলো সেলেব জনগণ তৈরি করলেও সেটি মূলত স্টেট ম্যাশিনারির ইকুইপমেন্ট বা রাষ্ট্রযন্ত্রের যন্ত্র বিশেষ। এক সময় আমিও সাবনুরের ছবি পড়ার টেবিলের সামনে রাখতাম। দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের ছবি টাঙ্গায় রাখতাম ঘরে। ভিউকার্ড থেকে সেলেবের ছবি কেটে শুধু চোখটা রাখলেই বলে দিতে পারতাম এটা শচীন বা শাহরুকের ছবি।
শুক্করে শুক্করে বয়স বাড়ছে। পৃথিবীর সব নদী যেমন শুকিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাদের ভয়াল গ্রাসে, উন্নয়নের নিচে চাপা পড়ছে যেমন বুকের ভেতর থাকা ছোট্ট লাল দুপুর ফুল-তেমনি করে আমাকে পুঁজিবাদের এই গ্লামার বানানোর কারখানার হদিস নিতে হচ্ছে। নিশ্চিত থাকেন, আজ বা কাল আপনাদেরও নিতে হবে। চোখের সামনে নিজের হিরো যখন ধসে পড়ে জানি আপনাদের কান্না পায়, আমারও পেয়েছিলো। সেলেবদের ভালো না বেসে নিজেকে ভালোবাসুন। লেখক : সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে
The post আরিফুজ্জামান তুহিন: কেন মিয়া খলিফা বেশি গুরুত্বপূর্ণ শচীন থেকে! appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment