[১] সরবরাহ না থাকায় বেশিরভাগ উপজেলায় করোনা টিকা দেয়া বন্ধ
শিমুল মাহমুদ: [২] ‘দেশে টিকার মজুত শেষ হওয়ায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে’- দরজায় এই নোটিশ ঝুলিয়ে ভ্যাকসিন সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলার সিভিল সার্জন বলেন, ঈদের পরপরই আমাদের এখানে টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার ৫ টি উপজেলায় টিকাদান বন্ধ রয়েছে।
[৩] সারাদেশের উপজেলাগুলোর চিত্র প্রায় একই। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সামান্য মজুত থাকলেও উপজেলার বেশিরভাগেই নেই। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয়টি জেলায় টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। এ ছয় জেলা হচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় কিছু টিকা অবশিষ্ট থাকায় সেখানে কার্যক্রম চলবে।
[৪] বরিশালের তিনটি টিকা কেন্দ্রের সবগুলোই বন্ধ। বলা হচ্ছে, সরবরাহ এলে টিকা দেওয়া শুরু হবে। হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হয় অনেকে।
[৫] সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, আমাদের কোনো কেন্দ্রেই টিকা নেই। নতুন করে টিকা আসলে হয়তো আবার শুরু করতে পারবো।
[৬] ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম জানান, টিকার সরবরাহ না থাকায় ইতিমধ্যে ভালুকা উপজেলায় টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ময়মনসিংহ মহানগরীতে আর এক দিন হয়তো চলবে।
[৭] ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ- এসব এলাকার আরও তিন দিন টিকা কার্যক্রম চলবে। ঢাকার অন্যান্য কেন্দ্রের হিসেব আমার কাছে নেই, সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে হয়।
[৮] কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত যে টিকা আছে এতে এ সপ্তাহ চলবে।
[৯] খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, টিকা মজুদ না থাকায় উপজেলা পর্যায়ে রোববার থেকে টিকা দান কার্যক্রম বন্ধ। এখন শুধু মহানগরীতে টিকাদান চলছে, আর তিন দিন হয়তো চলবে।
[১০] দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমাদের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলা টিকা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এতে প্রতিদিন ৬ শত মানুষ টিকা নিচ্ছে, সে হিসেবে আমরা ২৯ তারিখ পর্যন্ত চালাতে পারবো।
[১১] নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র বন্ধ হয়নি। তবে যে টিকা রয়েছে, তা ৩ থেকে চার দিনের মধ্যে সম্পূর্ন শেষ হয়ে যাবে।
[১২] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রথম ডোজ নেওয়া সবাই এখনই দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারছেন না। প্রায় ১৫ লাখ মানুষের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা পেতে দেরি হবে। তবে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
[১৩] অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এই সপ্তাহের পর টিকার মজুত একেবারেই শেষ হয়ে যাবে। তবে সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছে থাকা বাড়তি মজুত থেকে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী, কোনও না কোনওভাবে এই উৎসগুলো থেকে দেশের চাহিদা অনুযায়ী এই টিকা সংগ্রহ করতে পারবো। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব
The post [১] সরবরাহ না থাকায় বেশিরভাগ উপজেলায় করোনা টিকা দেয়া বন্ধ appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment