ডাক্তারশূন্যতা দূরে টিকায় জোর
কালের কণ্ঠ : সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত ছয় হাজারের বেশি শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে চলতি মাসেই। করোনার কারণে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলো বন্ধ থাকায় তাঁদের জায়গায় যে উত্তরসূরিরা আসবেন, সেই ব্যাচের এখনো চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়নি। মহামারির মধ্যে হাসপাতালগুলোর প্রাথমিক পর্যায়ে মূল দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সংকট তৈরি হলে হাসপাতাল পর্যায়ে নেমে আসতে পারে আরেক বিপর্যয়। এমন আশঙ্কা থেকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে এমবিবিএস কোর্সের শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সংকট কাটানোর কৌশল নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই তাদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে শুধু এমবিবিএসই নয়, সব ধরনের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীই এ সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্টসহ এ ধরনের শিক্ষার্থীদেরও এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে এরই মধ্যে এসংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস মিলে সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ৫৯ হাজার ৫৪৮ জন ছাত্র-ছাত্রী, আইএসটির ১২ হাজার ৬৮৫ জন এবং ম্যাটসের ২৬ হাজার ৪০৬ জনসহ মোট ৯৮ হাজার ৬৩৯ জনকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রতিবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তবে প্রতি শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে পাস করে শিক্ষানবিশ হিসেবে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত হয় ৬০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী, যারা এক বছর নিজ নিজ কলেজের সঙ্গে থাকা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে। প্রতিবছর মে মাসে প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মেয়াদ শেষ হয়। সেই হিসাবে চলতি মাসেই সর্বশেষ ব্যাচের শিক্ষানবিশ মেয়াদ শেষ হবে। এরপর তাদের জন্য আর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তারা বিএমডিসির সনদপ্রাপ্ত হয়ে যার পথমতো চাকরিতে যাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসক হিসেবে। ফলে মেডিক্যাল কলেজ সংযুক্ত হাসপাতালগুলোতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। সেদিকে নজর রেখেই আমি প্রস্তাব দিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ খুলে দেওয়ার পথ তৈরির জন্য।’
অধ্যাপক এনায়েত বলেন, ‘আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যে যদি সব মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া যায় তবে আগস্ট নাগাদ সব মেডিক্যাল কলেজ খুলে দিতে পারব। এ ছাড়া হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক না থাকলে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বছরজুড়ে অব্যাহতভাবে একটানা করোনাকালীন দায়িত্ব পালনের ফলে অনেকেই ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা টিকা দেওয়ার পর মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদেরও প্রাথমিক সেবার সুবিধার জন্য হাসপাতালগুলোতে কাজে লাগাতে পারব। যাতে একটানা কাজ করে যাওয়া চিকিৎসকদেরও সহায়তা হবে আবার এই শিক্ষার্থীরাও বিকল্প হিসেবে প্রশিক্ষিত একটি জনবল তৈরি হতে পারবে।’
তিনি বলেন, এবার যারা এমবিবিএস ও বিডিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হচ্ছে, তারাও যাতে এই টিকা পায় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নার্সিংয়ে যারা আছে তাদেরকে একইভাবে এই টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য অবশ্য নার্সিং বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে মেডিক্যাল ও নার্সিং সেক্টরের প্রায় দেড় লাখের মতো শিক্ষার্থী টিকা পাবে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার বলেন, ‘যতটা শুনেছি আগে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। তারপর দেওয়া হবে নার্সিং শিক্ষার্থীদের।’ তবে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে নার্সিংয়ে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, তা মহাপরিচালক জানাতে পারেননি।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. সামসুল হক বলেছেন, গতকাল থেকেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। চীন সরকারের উপহার হিসেবে দেওয়া টিকা থেকেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা টিকা পাবে। তিনি বলেন, শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কমে গেলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
The post ডাক্তারশূন্যতা দূরে টিকায় জোর appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment