ভারতের কৃষি খামার পণ্য রফতানি ৬ বছরে রেকর্ড বৃদ্ধি ১৯ বিলিয়ন ডলার
রাশিদ রিয়াজ : ভারতে এধরনের পণ্য রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশের কাছাকাছি এবং এর আর্থিক মূল্য ১৫.৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দেশটির চাল ও গম রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে তা পরিমাণে ২০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত হচ্ছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজত খাদ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে কোভিড মহামারি সত্ত্বেও চালের রফতানি রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৯ মিলিয়ন টনে। এর পাশাপাশি বাসমতি চাল রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৬ মিলিয়ন টন। গম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২.০৮ মিলিয়ন টন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাম্পার ফলন ও অন্য রফতানি দেশগুলোর তুলনায় এসব পণ্যের কম মূল্যের কারণে তা রেকর্ড রফতানি বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
আই গ্রেইন ইন্ডিয়ার বাজার গবেষক রাহুল চৌহান বলেন গত ৬ বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক দরে ভারত এসব পণ্য রফতানি করতে সমর্থ হওয়ায় তা সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দি প্রিন্টকে তিনি আরো বলেন ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা প্রকল্পের আওতায় প্রচুর খাদ্যশস্য বিতরণ করায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তা প্রতিযোগিতামূলক কম দামে রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে। ভূকৌশলগত অবস্থানের দিক থেকে ভারত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার খুব কাছাকাছি দেশ হওয়ায় ওসব অঞ্চলের দেশুগুলো সহজে, কমসময় ও অপেক্ষাকৃত কম দরে খাদ্য আমদানি করতে পারছে।
জাতিসংঘর খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যে গ্লোবাল ফুড প্রাইস ইনডেক্স রয়েছে তা এবং অন্যান্য দেশে এসব পণ্যের রফতানি মূল্যের চেয়ে কম দরে রফতানি করছে ভারত। অস্ট্রেলিয়া যখন প্রতি টন গম রফতানি করছে ৩শ ডলারে, ভারত তা করছে ২৮০ ডলারে। একই পণ্য ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা রফতানি করছে ৩১০ থেকে ৩২০ ডলারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন করছে ২৯০ ডলারে। এরপাশাপাশি ভারত চাল রফতানি করছে প্রতি টন ৩৬০ থেকে ৩৯০ ডলারে। থাইল্যান্ড তা করছে ৪৯৫, ভিয়েতনাম ৪৭০ ও পাকিস্তান করছে ৪৪০ ডলারে। ভারতের চাল ও গম রফতানি করছে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, বিহার, গুজরাট ও রাজস্থান থেকে। একই সঙ্গে ভারত সরকার বাজার তদারকির মাধ্যমে চাল ও গম ক্রয় অব্যাহত রাখে যার ফলে কৃষক মজুদ না করে তা বাধ্য হয় বাজার মূল্যে বিক্রি করতে। এবং রফতানি মূল্যে অন্য দেশের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ভারত একারণেই এগিয়ে থাকে।
এগনেস্ট টেকনোলোজিসের প্রধান নির্বাহী তারানজিৎ সিং ভোমরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাল ও গমের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভারত সহজে আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক দামে তা রফতানি করতে পারছে। ভারত ২৮০ ও ২৮৫ ডলারে প্রতি টন গত রফতানি করছে যা অন্যদেশের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের গমের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ভারত সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ব্যাপকভিত্তিক চাল ও গম ক্রয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বাম্পার ফলনে চাল ও গমের সরবরাহে কোনো ঘাটতি সৃষ্টি হয়নি। উপরন্তু রফতানি করা ক্ষেত্রে চাল ও গমের পরিমাণগত কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়নি। কোভিড মহামারী সত্ত্বেও ভারতের অনেক কৃষককে রফতানির বাজারে পা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভারতের মোট চাল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল রেকর্ড ১২১.৪৬ মিলিয়ন টন। এর আগের বছর তা ছিল ১১৮ মিলিয়ন টন। গত ৫ বছরে যা গড় উৎপাদন ১১২.৪৪ মিলিয়ন টনের চেয়ে ৯ মিলিয়ন টন বেশি। গত ২৪ মে পর্যন্ত ৭৭.২ মিলিয়ন টন চাল সংগ্রহ করেছে সরকারি সংস্থাগুলো। একই সময়ে গম সংগৃহীত হয়েছে ৩৯.গ৬ মিলিয়ন টন।
The post ভারতের কৃষি খামার পণ্য রফতানি ৬ বছরে রেকর্ড বৃদ্ধি ১৯ বিলিয়ন ডলার appeared first on বিডি২৪টাইম.কম | BD24TIME.COM.
Comments
Post a Comment