শর্মী ভৌমিক: বর্ষাকে দেখেছিলেম আমি
শর্মী ভৌমিক: মেঘলা মধুর দিনে আমি বসি একেলা ভাবিছি কতো কথা মনে। ফেলে আসা দিন কেবলি আমায় পিছু টানে! কৈশোরে এমন দিনে ঘরে বসে থাকতে মন চাইতো না কিছুতেই আমার। গ্রীষ্ম শেষে যখন বর্ষার আগমন ঘটার লগ্ন আসতো, তখন কোথা থেকে যেন জলস্রোত ধেয়ে আসতো আমাদের ক্ষেত-পাথারগুলোকে ডুবিয়ে দিতে। গ্রীষ্মে কাঠফাটা রোদ্দুরে চৌচির হওয়া জমিজমা, মাঠঘাট, প্রান্তর নিমিষেই শান্তিজলে স্নান করে মুক্তি লাভ করতো, খরতাপের হিংস্র দহন হতে। বর্ষা শুরু মানে মেঘলা আকাশ। যখন তখন অঝোরধারায় বৃষ্টির আগমন। রাতদিন বিরতিহীন বৃষ্টি আর বৃষ্টি। সূর্যের মুখ দেখা ভার হয়ে যায়। বৃষ্টি বাতাসে প্রকৃতিতে বান ডেকে যায় পূর্ণতার বিশুদ্ধ জোয়ার। শো শো করে জলস্রোত এগোতে থাকে। জলে ভরে যেতে থাকে মাঠঘাট ও গ্রামের চারিদিক। ফসলী মাঠগুলো এসময় যৌবনবতী হয়ে ওঠে। নদীর বাড়ন্ত জল ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় ঝড়ের গতিতে নানান এলাকায় ঢুকে পড়ে নদীর জলরাশি। জলস্রোতের সঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে হাজার রকমের মাছ। বর্ষার স্বচ্ছ জলে মাছেদের খেলা দেখে অভিভূত হয় গ্রামের মানুষ। আকাশে মেঘেরা ডেকে উঠলেই মাছেরা মাতাল হয় আনন্দ উন্মাদনায়। তখন গ্রামের বৃদ্ধ, যুবা, শিশু-কিশো...