জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: অনার কিলিংয়ের সংস্কৃতি আপনার সমাজেরই চেহারা
জান্নাতুন নাঈম প্রীতি : ইতালিতে এক পাকিস্তানি মেয়েকে বাপ-মা আর চাচারা মিলে প্ল্যান করে মেরে ফেলেছে। মেয়ের অপরাধ কী? অপরাধ হলো তার একজন পছন্দের মানুষ আছে আর সে তার বাপ-মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চায়নি। আপনি এইটা শুনে পাকিস্তানরে দুইটা জাতীয়তাবাদী গালি দেবেন আমি জানি। কিন্তু স্মরণ করায়ে দিই, সেই একই কাজ বাংলাদেশে গত বছরই হইছে। তাইলে কি বাংলাদেশ পাকিস্তান হয়ে গেছে? নাকি নারীদের দাস মনে করার এই সংস্কৃতি আপনার ও সমাজেরই একটা অংশ? বাংলাদেশে বংশের সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত একটা মিথ আছে। মিথটা হচ্ছে- এই বংশের মেয়ে হয়ে ওই কাজ কেমনে করলা? আমার প্রশ্ন খুবই সরল, বংশটা কার? বাপের না মায়ের? যেহেতু সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সেহেতু বাপের বংশ। এমনকি আমার প্রিয় লেখকদের একজন হুমায়ুন আজাদ ‘নারী’ নামের একটা আস্ত সংকলন লিখে পুত্র-কন্যাদের নামের সঙ্গে আজাদ জুড়ে দিছে। এসব দ্বিচারিতাও কি পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি না? আমি ব্যক্তিগতভাবে বংশের সম্মানের ধার কখনোই ধারিনি। কারণ এই জায়গা, এসব বংশ-পরিচয় আমি চুজ কইরা জন্মাই নাই। উপরন্তু আমার একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা চাচা ছিলেন। তারে একবার আমি জিগাইছিলাম- অতীতে...