সাদা ত্রাণকর্তা অথবা White Saviour মানে কী?
আফসান চৌধুরী: কথাটা ইদানিং পশ্চিমে খুব চালু। পশ্চিম সব জানে, পারে এটাই ধারণার উৎস। কিন্তু পশ্চিমের দুরবস্থা, তাদের চুরি ও কেলেঙ্কারি বিশেষ করে দাতা সংস্থা। এনজিওদের যৌন কেলেঙ্কারি নিজেদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছে। উপনিবেশ ও দাশ ব্যবসা বিরোধী আন্দোলন এটাকে জোরদার করেছে।
[২] উপনিবেশিক কালে সাদারা এসেছিলো আমাদের বাঁচাতে তারা বলে এবং তাদের স্থানীয় দালালরা জানায়। এটাই স্বাভাবিক, বিবর্তনবাদে টিকে থাকার জন্য মানুষ সব করে, দুনিয়া দখল না করলে টিকবে কী করে? সেই কালে ‘বিলেত ফেরত’ কথাটা অনেক চালু ছিল। বিলেত সিল মানে আধা ইংরেজ/সাদা তাই লোকাল মালের চেয়ে ভালো। এভাবেই পশ্চিম ভাবনা এতো গভীরে প্রোথিত আমাদের সমাজে।
[৩] কিন্তু আজকাল পশ্চিমেই প্রশ্ন উঠেছে নিজেদের সম্পর্কে যদিও আমাদের সেটা নেই। আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা বা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের নির্ভর করে পশ্চিমা লেখা পড়াদের ওপর। বিদেশ থেকে আমরা লোক নিই দেশের ইউনিভার্সিটি চালাতে। এক্সপার্ট ভাড়া করি, সেটা তার বিষয় না হলেও। এমনকি যে দেশি, বিদেশে থাকে বা কাজ করে, সে একধরনের ‘সাদা’ হয়ে যায়। ধলাদের দিকে আমরা আজও তাকিয়ে আছি।
[৪] আমরা পাল্টাবো না তবে দুইটা বাস্তবতা কাজ করছে যেটা পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে/করছে।
প্রথমতঃ দাতা সংস্থাদের টাকা কমছে অতএব তাদের এই দেশে নেতা হওয়ার সুযোগ/ইচ্ছা কমে যাচ্ছে। NGO জগৎ সহসাই ক্ষুদ্র হচ্ছে। তাদের টাকার তুলনায় সরকারের টাকা অনেক বেশি, তাই তারা পাত্তা পায় কম
দ্বিতীয়তঃ চীনের আগ্রাসী বিস্তার হচ্ছে প্রবলভাবে আর পশ্চিম সন্ত্রস্ত এই পরিস্থিতে। এরকম প্যানিক পশ্চিমা দুনিয়ায় দেখা যায়নি বহু দিন। সোভিয়েত ইউনিয়নকে তারা ঘৃণা করতো, কিন্তু একই মানুষ ভাবতো। হান্টিংটনের কথায়, তারাও পশ্চিমা সভ্যতার অংশ- সাদা মিয়া। তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে দুর্বল, টেকেনি। কিন্তু চীনারা হলুদ, নাক বোচা আর পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সফল। অধুনা, পশ্চিমের চেয়ে বেশি, তাই প্রতিদিন টেনশন বাড়ছে পশ্চিমে। অন্যদের ত্রাণকর্তা হবার সময় নেই, ‘চাচা আপন পরান বাঁচা ‘অবস্থা।
[৫] তাহলে আমাদের কী হবে? সাদা ত্রাণকর্তা ছাড়া দেশি অথবা বিদেশি যে আগামী তার জন্য কি কারও প্রস্তুতি আছে? না থাকলে যা হয়, তাই হবে।
লেখক :গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
Comments
Post a Comment