ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন-ঘরমুখো মানুষের চাপ

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। গণপরিবন না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা মহাড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের। অপর দিকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও মোটর সাইকেলে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে মানুষ। গণপরিবহন না থাকায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সরেজমিনে সোমবার (১০ মে) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গনপরিবহন না থাকার সুযোগে ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, হাইস, সিএনজি ও মোটর সাইকেল চালকদের কয়েকগুন বেশি ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। আবার অনেক যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা চার লেন হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে চলছে যানবাহন।
খালেদা বেগম নামে এক নারী যাত্রী বার্তা বাজারকে বলেন, আমি নাগরপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত এসেছি সিএনজিতে। আগের তুলনায় দেড়গুন ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। নাটোরের গাড়ির জন্য প্রায় এক ঘণ্টা যাবত দাঁড়িয়ে আছি। কিভাবে বাড়ি ফিরবো বুঝতেছি না। এক হাইস গাড়ির চালক আমার কাছে ১৪শ’ টাকা ভাড়া চেয়েছে। মোতালেব মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাস থেকে সিরাজগঞ্জ রোডে যাচ্ছি ৫শ’ টাকা দিয়ে। আগে ১শ-১৫০ টাকায় যেতে পারতাম। বাড়া তো বেশি দিচ্ছি তাও আবার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাড়িতে লোক তুলছে। পাবনাগামী আলিম মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, গনপরিবহন না থাকায় তিন গুন বেশি বাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে বাড়ি যাচ্ছি। সুনামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ ও ময়মনসিংহ থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত দুই সিএনজিতে এসেছি। দাঁড়িয়ে আছি অনেকক্ষণ যাবত তবে গাড়ি পাচ্ছি না।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (৯ মে) ভোর ৬ টা থেকে সোমবার (১০ মে) ভোর ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩১ হাজার ৮৯৯ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক বেশি। এ সময়ে প্রায় ২শ’ বাস পারাপার হয়েছে। আর এতে টোল আদায় করা হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ টাকা। যা অন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম বার্তা বাজারকে জানান, অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মহাসড়কে বাসের সংখ্যা কম রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাসেও মামলা দেয়া হচ্ছে। তবুও অনেকেই মহাসড়কে বাস চালাচ্ছেন। তবে যে কোন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/পি
Comments
Post a Comment