কুড়িগ্রামে কেজিতে মিলছে তরমুজ

মৌসুমের শেষ দিকেও কুড়িগ্রামের বাজার গুলোতে তরমুজ মিলছে অহরহ। জেলার সবগুলো ফলের দোকানে ভালোই দেখা যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি।
তবে ফলের চাহিদা এত থাকলেও নিজেদের সাধ্যমত ফল কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। কেননা কুড়িগ্রামের বাজারগুলোতে মৌসুমী এই ফলটি প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। একেকটি তরমুজ ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের হওয়ার কারণে হাতের নাগালে তরমুজ থাকলেও তার স্বাদ নিতে পারেন না অনেকেই। কেননা একেকটি ৪-৫ কেজি ওজনের তরমুজের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পড়ছে।
তরমুজ বিক্রেতারা পিস হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে সেই তরমুজ কেজি দরে বিক্রির কারণে মাঝে-মধ্যে অনেক ক্রেতাকেও দেখা যায় বাক-বিতন্ডা করতে,তারপরও পিস হিসেবে মেলেনা তরমুজ।
কুড়িগ্রাম জিয়া বাজারে তরমুজ কিনতে আসা ক্রেতা মাসুদ রানা বলেন,”কিছুদিন আগে খবরে দেখলাম কয়েকটি জায়গায় তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করার কারনে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। তারপর থেকে অনেক জায়গায় পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ । কিন্তু আমি পিস হিসেবে তরমুজ কিনতে পারছি না,তারা কেজি ৫৫ টাকা করে চাচ্ছে।”
মৌসুমের শেষ দিকে এত তরমুজ থাকার পরও কেজিতে বিক্রির কারণ হিসেবে পাইকারী বিক্রেতাকে দায়ী করছেন খুচরা ফল ব্যবসায়ীরা।
জেলার জিয়া বাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী রওশদ আলী বলেন,”আমি পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬০ মণ তরমুজ কিনছি,মণ হিসেবে আমাকে ১৮০০ করে কিনতে হয়েছে। আমি যদি এখন পিস হিসেবে বিক্রি করি,তাহলে আমার লাভ হবে কেমন করে।”
জেলার পৌর বাজারের পাইকারী তরমুজ ব্যবসায়ী মোঃ ইসাহার আলী বলেন,”৩৫ হাজার তরমুজ পিস হিসেবে কিনেছি,আমার খরচ পড়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
এছাড়াও পরিবহন ,শ্রমিক,টোল এসব খরচ তো আছেই,এ বাদে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে পড়ে যায়,ব্যবসার ক্ষতি করে আমরা কিভাবে পিস হিসেবে বিক্রি করবো বলেন। তারপরও সবাই যদি পিস হিসেবে বিক্রি করে তাহলে তখন আমরাও পিস হিসেবে বিক্রি করবো।”
ছোট ও মাঝারি তরমুজ গুলো প্রতি পিস ৪০ থেকে ৭০ ও বড় পিস ১০০থেকে ১২০টাকা বিক্রি করলে ব্যাবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে বলে মত ভোক্তাদের। পরিবহন ও শ্রমিক খরচের নামে মৌসুমী এই ফলটির কেজিদরে বিক্রির সিন্ডিকেট বন্ধ অন্যান্য জেলার মতো কুড়িগ্রামেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হতে পারে বলে এমনটাই আশা করছেন অনেক ক্রেতারা।
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি
Comments
Post a Comment