শওগাত আলী সাগর: গণমাধ্যমের আসলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো রূপ নেই
শওগাত আলী সাগর: আমরা যখন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি, তথ্যনির্ভর,বস্তুনিষ্ঠতার কথা বলি- তার আসলে অবয়ব কি? বস্তুনিষ্ঠতা কিংবা তথ্যনির্ভর সংবাদের কি সর্বজনীন কোনো ব্যাকারণ আছে! যে কোনো তথ্য কিংবা খবর যাদের পক্ষে যায়- নিসন্দেহে তোদের কাছে সেটি তথ্যনির্ভর সংবাদ। কিন্তু যার বিপক্ষে যায়- তার কাছে সেটিই হলুদ সংবাদ কিংবা মিথ্যা সংবাদ। তা হলে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা কী!
এই যে প্যালেস্টাইন আর ইসরাইলিদের সহিংসতার খবর আমরা মিডিয়ায় পড়ছি- তাকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করি! আমরা চোখ বন্ধ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমকে পক্ষপাতমূলক বলে সিল মেরে দেই, কানাডা,আমেরিকা তথা পশ্চিমা শাসকদের চৌদ্ধ গোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলি- তাদের ইসরাইল সমর্থনের কারনে। তারা যদি ঠিক একই কারনে আমাদের ‘চৌদ্ধ গোষ্ঠী উদ্ধারে নামে’ সেটিই কিন্তু আমরা গ্রহণ করবো না।
ইসরাইলি হামলায় প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যু নিয়ে আমরা হাহাকার করি, আবার হামাসের হামলায় ইসরাইলিদের মৃত্যুর খবরে উল্লাস প্রকাশ করি। আমরা ভাবতে পারিনা- দুইপক্ষেই যারা মরেছে- তারা আসলে মানুষ, তাদের এইভাবে মরার কথা ছিলো না। হামাসের হামলার তীব্রতার সংবাদের নিউজলিংক ফেসবুকে পোস্ট করে আমরা তার বাহবা দেই, উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি। আমরা নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে ইসরাইলিদের ধ্বংস কামনা করে প্রার্থনা করি। আর ইসরাইলিরা যখন তাদের প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ করি।
সোমবার পর্যন্ত হামাস ইসরাইলিদের উপর ২৩০০ রকেট নিক্ষেপ করেছে। আর ইসরাইলিরা প্যালেস্টাইনিদের অস্তিত্ব মুছে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কোনটাকে সমর্থন করবো? কোনটার প্রতিবাদ করবো! আমরা কি দুটোরই প্রতিবাদ করতে পারবো!
গণমাধ্যমের আসলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো ‘রুপ’ নাই। পৃথিবীর কোথাও নাই। নিজের চিন্তার সাথে মিলে গেলে তাকেই কেবল আমরা গ্রহণ করি, আর কাউকে গ্রহণ করতে চাই না। ফেসবুক থেকে
Comments
Post a Comment