ভিজিএফের তালিকা তৈরিতে আ.লীগের নেতারা, প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার শিরন্টী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের (ভিজিএফ) সুফলভোগীর তালিকা প্রস্তুত ও সহায়তার টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৬ নম্বর শিরন্টী ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এসব তালিকায় থাকা বেশিরভাগ ব্যক্তিরা সরকার থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ভিজিডিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতা থাকার পরও কোনো কোনো পরিবার থেকে ৩-৪ জনকে ভিজিএফ তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে।
১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি তালিকা থেকে ইতোমধ্যে বিতরণকার্য সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ওই তালিকায় দেখা গেছে, সোনাডাঙ্গা গ্রামের জনৈক এক শিক্ষকের পরিবার থেকে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভিজিএফের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত অসহায় লোকজন ঈদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তারা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সমন্বয় করে আমাদের ওয়ার্ড থেকে ১৫০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে কেউ আগে থেকে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতেন কি-না তা জানা নেই। তবে হতদরিদ্র প্রায় সবারই নাম এখানে রয়েছে।’
জানতে চাইলে শিরন্টী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল বাকী জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়নের পাঁচ হাজার ৮৪ জনের মাঝে ভিজিএফের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আমি সরকারি প্রজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের ভিজিএফ তালিকা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তা উপেক্ষা করে ৯টি ওয়ার্ডে এক হাজার ৬৫০ জনের একটি তালিকা তৈরি করে ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জোর করে চাপিয়ে দিয়েছেন। ওই তালিকার বেশিরভাগ ভিজিএফধারীরা সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই।’
শিরন্টী ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার অসীম কুমার সাহা বলেন, ‘আমার দায়িত্ব তালিকা দেখে সুফলভোগীর হাতে টাকা বুঝিয়ে দেয়া। আমার যা দায়িত্ব সেটাই পালন করছি।’
সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শাহাজান হোসেন মণ্ডল বলেন, যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে দিতে হবে। তালিকা প্রস্তুতিতে দলীয় লোকজনের কোনো এখতিয়ার নেই। এটা প্রস্তত করবেন স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা।
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভিজিএফের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাছাই কমিটিতে স্থানীয় এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের একজন প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা থাকবেন। যারা তালিকা প্রস্তুত করে আমাদের কাছে পাঠান। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার যাচাই-বাছাই ও বিতরণ করবেন। এর বাইরে যদি তালিকা তৈরি ও বিতরণে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্বাস আলী/এসআর/এমকেএইচ
Comments
Post a Comment