মাদকের অভয় আশ্রম চারঘাটে শতাধিক পয়েন্ট, বিক্রি হচ্ছে নির্বিঘ্নে!

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা এখন সক্রিয়। সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে চারঘাট মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূলত, ভারত থেকে নদী পথে চোরাইভাবে আসা ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও দেশীয় তৈরি চুলাই মদ ও গাজাঁ অবাধে বিক্রয় করছে মাদককারবারীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমবেশি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১০০টি পয়েন্টে অবাধে বিক্রয় হচ্ছে মাদক।
উপজেলার উল্লেখযোগ্য মাদক বিক্রয় পয়েন্টগুলো হচ্ছে, শলুয়া ইউনিয়নের তাতারপুর কারিগরপাড়া আমবাগান, কানজগাড়ি গ্রাম, বালুদিয়ার আজিজুলের মোড়ে উত্তরসাইডে আম বাগান, ক্ষুদিরবটতলা পশ্চিমপাশের বামনদিঘির সাওতালপাড়া হলিদাগাছি হাটপাড়া ও ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকা, ইউসুফপুর ইউনিয়নের জয়পুর বাজার সংলগ্ন, শ্রীখন্ডি, কান্দিপাড়া, ইউসুফপুর বাজার ও মোবাইল টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা, ফুদকিপাড়া তছির আমাবাগান, সরদহ ইউনিয়নের চকঝিকরা, বিজোড়, পাটিয়াকান্দি, সাদিপুর মোল্লাপাড়া, নিমপাড়া ইউনিয়নের হাতেম মোড়, কৈডাঙ্গা বরকতপুর, নন্দনগাছি রেল স্টেশন, কামিনি গঙ্গারামপুর ও কালুহাটি বাজার সংলগ্ন এলাকা, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বাকড়া মোবাইল টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা, বুদিরহাট ও পাগলপাড়া মোড়, চারঘাট ইউনিয়নের পরানপুর, পিরোজপুর, রাওথা কাঁকড়ামারী বাজারের পূর্বদিকে মসজিদ সংলগ্ন আমবাগান গুলোতে ও ঘোষেরপুকুরের আশেপাশে, পিরোজপুর ডালিপাড়া আজাদের বাড়ি সংলগ্ন, চন্দনশহর মানিকের বাড়ি সংলগ্ন এবং পৌরসভার পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন আমাবাগান, মোক্তারপুর আন্ধারীপাড়া, চকপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া,চারঘাট বাবুপাড়া,গোপালপুর,কাঁকড়ামারী ও বনকিশোর স্কুল সংলগ্ন।
স্থানীয় যুবসমাজ ও পাশর্বর্তী জেলা-উপজেলার যুবকেরাই এই মাদকের প্রধান ক্রেতা বলে জানা যায়। মটরবাইকে করে এই সকল যুবকরা উল্লেখিত সুবিধাজনক মাদক বিক্রয় পয়েন্টে গিয়ে মাদক ক্রয় ও সেবন করে থাকে। মাদকের আগ্রাসনে এলাকার যুব সমাজ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি মেধাসত্বাবিহীন ভাবে গড়ে উঠছে। মাদক সেবনের টাকা যোগাড় করতে এসকল যুবকগন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। তাছাড়াও গত কয়েক মাসে মোক্তারুপুরের আন্ধারীপাড়ায় ও ইউসুফপুর সিপাইপাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্ব বিস্তারে কয়েক দফা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
মাদক বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে ছোট মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও মাদক গডফাদাররা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায় বলে জানিয়েছেন ইউসুফপুরের মোক্তার হোসেন। বহিরাগত মাদকসেবীদের রক্ষাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশ পথে পুলিশ চেকপোষ্ট বসানোর অনুরোধ জানিয়েছেন সরদহ বাজার ব্যবসায়ী আওয়াল।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ঈদকে সামনে রেখে পুরুষ ও মহিলারা অভিনব কায়দায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের আটক করা হলেও দ্রত জামিনে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান।
উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটি ও মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। আইনশৃংখলা মিটিং এ বার বার মাদক বিক্রয় পয়েন্টের নাম উল্লেখপূর্বক বিষয় উপস্থান করলেও মাদকবন্ধে এর সুফল বাস্তবায়ন দেখতে পাওয়া যায় না। মাদক নিমূল করতে হলে মাদন দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, বিজিবি, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে মাদক নিমূলে সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ইতিমধ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদেরকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানের ভয়ে অনেক মাদকব্যবসায়ীরা চরে অবস্থান করছে। চারঘাটকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যহত রয়েছে।
মোঃ নবী আলম/বার্তাবাজার/পি
Comments
Post a Comment