কেরানীগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী ৫২ খাল

প্রভাবশালীদের দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্থিত্ব সংকটে কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ৫২টি খাল। চারদিকে নদীবেষ্টিত কেরানীগঞ্জের খালগুলো ভূমিদস্যুরা বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছে। প্রভাবখাটিয়ে এসব খানের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে একাধিক সংঘবদ্ধ দল। আবর্জনা ও ভরাটের ফলে ৬০ ফুট প্রশস্ত খালগুলো এখন বন্ধ জলাশয় পরিণত হয়েছে।
বুড়িগঙ্গা নদীর শাখা শুভাঢ্যা খাল দিয়ে এক সময় সরাসরি মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল কিন্তু এখন তা রূপকথা গল্পের মতো মনে হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ খাল বর্তমানে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জের অধিকাংশ খাল বিলীনের পথে। শুভাঢ্যা, তেঘরিয়া পারগেন্ডারিয়াসহ প্রায় সকল খাল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও শুভাঢ্যা,আটিবাজার ও কলাতিয়া খালের দুই পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ বহুতল ভবন। যে যেখানে পেরেছে ভবন নির্মাণ করেছে। এর ফলে একের পর এক ভবন হেলে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেরানীগঞ্জের এসব খাল দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। খানের জায়গা ভরাট করে বাড়ি-ঘর ও মার্কেট পর্যন্ত নির্মাণ করেছে। এখন দেখলে মনে হয় এখানে কোনোদিন খালই ছিলোনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পারছে না।
আরও অভিযোগ, ওয়ার্ড ভিত্তিক ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাসিন্দারা খালগুলোতে বাধ্য হয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।ফলে খালের পচাঁ পানি, নোংরা পরিবেশ ও ময়লা ভাগাড়ে এলাকায় ক্রমাগত মশা -মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, ইতিমধ্যে খালগুলো খননের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। খালের আশেপাশে সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে। অবৈধ স্থাপনাকারী যত শক্তিশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা খালের পাড়ে কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সিলগালা করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অতি দ্রুত খালটি উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ এলাকাবাসী সুবিধার্থে সকল সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রানা আহমেদ/বার্তাবাজার/পি
Comments
Post a Comment