ফুলের মতোই নিষ্পাপ ছিল আমার বোন : নুসরাতের ভাই
নুসরাত জাহান রাফির কবরের পাশে অত্যন্ত যত্ন করে সাদা গোলাপের গাছটি লাগিয়েছিলেন বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। গত বুধবার গাছটিতে একটি ফুল ফুটেছে। প্রতিবাদী এই মাদরাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিনেও সাদা গোলাপটি শোভা দিয়েছে তার কবরে।
ফেনীর সোনাগাজী পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামে নুসরাতের বাড়ি। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সন্ত্রাসীরা তাঁকে মাদরাসার ছাদে নিয়ে আগুনে পোড়ায়, যার বিচারে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে।
নুসরাতের বাড়ির কাছে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত নুসরাত। চারপাশে গাছপালা ঘেরা পরিবেশ পাখির কলকাকলিতে মুখর।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘তাঁর মাঝে কখনো খারাপ কিছু দেখিনি। বাইরের কেউ তাকে নেকাব ছাড়া কখনো দেখেনি। আমাদের তিন ভাইয়ের অতি আদরের ছিল বোনটি।’
নোমান আরো বলেন, ‘ফুলের মতোই নিষ্পাপ ছিল আমার বোন। রায়ের মধ্য দিয়ে বোনের আত্মা শান্তি পাবে। নুসরাত যে ঘরে থাকতেন সেই ঘরে ঢুকতেই দরজার ডানপাশে পড়ার টেবিল। এখনও গোছানো ও পরিপাটি ঘরটি।
নুসরাতের মা শিরিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নুসরাতের ঘর সবসময়ই এমন গোছানো থাকতো। পড়ার টেবিল, বিছানাও সে এমন গুছিয়ে রাখত।’
কক্ষটিতে নুসরাতের শখের ঘড়ি থেকে শুরু করে তার ব্যবহৃত স্টিলের আলমারি আগের মতোই রেখেছে পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে অর্জিত ক্রেস্টগুলোও আগের মতোই সাজানো অবস্থায় আছে। শুধু নেই নুসরাত।
বার্তাবাজার/এম.কে
from Bartabazar.com https://ift.tt/2BJpUBA
via IFTTT
Comments
Post a Comment