পাপন দ্বৈত চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন : সাবের
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি অনবদ্য নাম। তাই সাকিব ইস্যুতে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। কূটনৈতিক দক্ষতা দেখাতে পারলে শাস্তি ছয় মাস হতে পারতো বলে মনে করেন সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। সাকিবের শাস্তি কমানোর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিসিবি সভাপতি দ্বৈত চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য তার।
মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানেই উল্টে গেল পাশার দান। বদলে গেল পাপনের মুখের বুলি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাপন বলেন, এক্সক্লুসিভ খবর আসছে আপনারা চিন্তা করবেন না, আসছে! গত ২২ অক্টোবর বিসিবি সভাপতি নিজেই আভাস দিয়েছিলেন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের। সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শিগগিরই বোমা ফাটছে ফিক্সিং ইস্যুতে। অথচ পারে সেই নাজমুল হাসান পাপনই দাবি করেছেন এ ব্যাপারে নাকি কিছুই জানতেন না তিনি।
পাপন বলেন, এটা সাকিবই বড় সাক্ষী। বিবিসি বা কেউ আমরা কিছুই জানি না। ওরা বলছে (আইসিসি) জানুয়ারি থেকে অনুসন্ধান চলছে আমরা কিছুই জানি না।
আসলেই কি তাই! কারণ সাকিব আল হাসানের ফিক্সিংয়ের এ ইস্যুটি প্রায় দুই বছরের পুরোনা। এরই মাঝে আকসুর সঙ্গে একাধিকবার দেখাও করেছেন সাকিব। আর বিসিবি সভাপতি হিসেবে বিষয়টি পাপনের অবগত না থাকার কথা নয়।
এছাড়া কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আইসিসি শাস্তি দিলে তা জানাতে হয় সংশ্লিষ্ট বোর্ডকেও। তাইতো ধোপে টিকছে না সভাপতির এমন দাবি।
সাবিক ইস্যুতে বিসিবি সভাপতিকে একহাত নিলেন সাবেক সভাপতি সাবের হোসনে চৌধুরী। টুইটারে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে আইসিসির নেয়া এমন সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও বিসিবি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাপন সাহেবের বক্তব্য আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না, কিন্তু আবার দেখেন উনি (পাপন সাহেব) ২২ তারিখে বেশ রাগ, ক্ষোভ ক্রোধের সবকিছুর মধ্যে বলল অনেক তথ্য আসছে ,আপনারা দেখবেন। সো তার মানে উনি এটা জানতেন। এ বিষয়ে অসত্য কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আনলেস আপনি অন্য কোনো বিষয় এখানে লুকানোর চেষ্টা করছেন।
সাবের হোসেন আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্তটা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে যদি আমরা এখানে কিছু কূটনীতির আশ্রয় নিতাম বা ক্রিকেট কূটনীতি, তাহলে এখানে কিছুটা কোনো কিছু করা যেত। আমার মনে হয় সাকিবের শাস্তির ব্যাপারে আইসিসি এবং ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তারা বিষয়টি সমন্বয় করে করেছে।
তার মতে বিসিবি সভাপতি নাকি অধৈর্য হয়ে গিয়েছিলেন সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির এমন রায় শোনার জন্য। তিনি বলেন, বোর্ড ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা দুর্নীতির মূলোৎপাটন না করে এটাকে আরও উৎসাহিত করছে। এমনকি সাকিবের জন্য বিসিবি কিছু না করে বরং মায়াকান্না দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেন সাবের হোসেন।
ঠিক ভারত সিরিজের আগে কেন সাকিবের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা! সাবের হোসেনের মতো এমন প্রশ্ন দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তদেরও।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি
Comments
Post a Comment