Smiley face

তুষার আব্দুল্রাহ: প্রথমেই বলে রাখি এই পোষ্ট পড়ে অনেকে ইমোশনাল হয়ে যেতে পারেন তাই প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
গতকাল সারাদিন ইউটিউব, ফেসবুক সব জায়গায় ক্রাইস্টচার্চ এ্যাটাক নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছি। সকলের মতোই আমার মাথায়ও শুধু এই ভয়াবহ বিষয়টাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। রাত ১ টা বেজে গেলো ঘুম আসছে না হঠাৎই মাথায় কেমন একটা আজগুবি চিন্তাভাবনা এসে পড়লো। আচ্ছা যদি সত্যি কিছু ঘটে যেতো তামিম, রিয়াদ, মুশিদের? কল্পনায় দেখলাম মাত্রই শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে এসে পৌছালো ক্রিকেটারদের লাশ।

হাজার হাজার মানুষের, ক্রিকেটারদের পরিবারের আর্তনাতে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা। বিশ্বক্রিকেটে বইছে শোকের বন্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করেছেন। (ভাবনার সবটা লিখবো না কারন এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে সবটা লিখা উচিত হবেনা) । পাকিস্থান, ভারত সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম ক্রিকেটাররা জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের শোকবার্তায় ভরে উঠেছে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলো। শহীদ ক্রিকেটারদের লাশ রাখা হলো শহীদ মিনারে।

জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভীড়। এর পূর্বে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষন ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা ব্যাতিত আর কখনো এতো মানুষ একত্রিত হয়েছে কিনা সন্দেহের ব্যাপার। বিভিন্ন স্থান থেকে টাইগার সমর্থকদের সুইসাইডের খবর আসছে। পাগলাদের কে বুঝাবে ক্রিকেটই যে তাদের প্রাণ। তাদের স্বপ্ন সারথীরা তাদের ছেড়ে চলে চলে গেছেন দূর অজানায় সে কষ্ট ভুলে কি করে। যাহোক ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে শোক কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে পুরো বাংলাদেশ।

আজ ১৫ ই এপ্রিল ২০১৯। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দল ঘোষনা করতে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। পড়তে লাগলেন নামগুলো

১)সৌম্য সরকার
২)লিটন দাশ
৩)ইমরুল কায়েস
৪)সাকিব আল হাসান
৫)মোসাদ্দেক হোসেন
৬)আফিফ হোসেন
৭)সাব্বির রহমান
৮)ইয়াসীর আলী
৯)মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক)

গলা ধরে আসছে নান্নুর আর বলতে পারছেন না তবুও বলতে লাগলেন।

১০)মোঃ সাইফউদ্দীন
১১)নাঈম হাসান
১২)রুবেল হোসেন
১৩)আবু হায়দার রনি
১৪)তাসকিন আহমেদ
১৫)শফিউল ইসলাম
১৬)নুরুল হাসান সোহান

প্রধান নির্বাচন কান্না ভেজা কন্ঠে ব্যাখা দিতে লাগলেন “দেখুন সোহানকে আমরা দলে রেখেছি ব্যাকআপ কিপার হিসেবে ওকে আমাদের লাগবে। ইয়াসির আলী গত বিপিএলের পর চলতি ডিপিএলেও দুর্দান্ত খেলছে। শফিউলও বিপিএলের পর ডিপিএলেও দারুন বল করেছে। মূলত এটাই আমাদের বিশ্বকাপ স্কোয়ার্ড। যেহেতু মে মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত দল পরিবর্তন করা যাবে সেহেতু আমরা আফিফ আর মোসাদ্দেক কে আয়ারল্যান্ডে একটু বাজিয়ে দেখতে চাই। দুজনের মধ্যে থেকে একজন যাবে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে। “

হঠাৎ একজন সংবাদকর্মীর প্রশ্ন : দল সাজাতে কি হিমশিম খেতে হয়েছে? তামিম, মুশফিক, রিয়াদ, মোস্তাফিজ, মিরাজদের কতটুকু মিস করেছেন?

এই প্রশ্নের আর উত্তর দিতে পারলেন না নান্নু সাহেব। হুহু করে কাঁদতে কাঁদতে উঠে গেলেন সংবাদ সম্মেলন থেকে। পেশাদার ক্রিকেটে এমন অপেশাদার আচরণে একটুও আপত্তি করে নি কেউ।

আজ ৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী। টস করতে যাওয়ার পর কমেন্ট্রটর ট্র্যাজেডির কথা মনে করিয়ে দিতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন মাশরাফি। কাঁদতে বলে বললেন “এই দলটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো। ভেঙ্গে গেলো, ভেঙ্গে গেলো, সব শেষ হয়ে গেলে “।

যাহোক টস জিতে ব্যাট করবে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর আগে সাবেক সর্তীর্থদের স্মরনে ১ মিনিট নিরবতা পালন করে দুই দল। ক্যামেরাম্যান জুম করে করে প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের ভেজা চোখ দেখিয়ে কাঁদিয়েছিলেন পুরো বিশ্বকে। থমাসের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেন দুই ওপেনার কায়েস, লিটন।

সৌম্যকে নিয়ে চেষ্টা করছেন সাকিব কিন্তু ব্যাক্তিগত ২২ রানে খোঁচা মারতে গিয়ে আউট সৌম্য। ক্রিজে আসলেন আফিফ। নিজের অভিষেক ম্যাচে করলেন মাত্র ১৬ রান এইদিকে দ্রুতই ফিরেন গেলেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের স্কোর ৯৮-৫ । মাশরাফি ভাবেন আজ তামিম থাকলে একপ্রান্ত আগলে রাখতো, মুশি থাকলে মিডলঅর্ডারটা এতো হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়তো না। ছেলেটা আবেগী ছিলো কিন্তু দলের জন্য জীবন দিয়ে খেলতো। সাব্বির আর সাকিব টেনে নিয়ে যাচ্ছেন দলকে। ইতিমধ্যে অর্ধশত পেয়ে গেছেন সাকিব।

সাকিবকে ভাগ্যবান বলতেই হয় ইঞ্জুরি না থাকলে সেদিন ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে থাকতো সাকিবকেও। যাহোক সাকিব ৯৯ রানে অপরাজিত। দেবেদ্র বিশুর বল ফাইন লেগে ঠেলে নিয়েই জায়গা পরিবর্তন করলেন শতরান পূর্ন হলো সাকিবের। পেশাদার সাকিব ব্যাট, হ্যালমেট, গ্লাভস সব ফেলে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলেন “আই মিস ইয়ু গাইস, রেস্ট ইন পিস “। পেশাদার সাকিবের এই চিৎকার শুনলো বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়েরা সহ পুরো মাঠ।

মাইক্রোফোনের সাহায্যে পুরো বিশ্ব। সেঞ্চুরি পেলেন সাকিব অথচ হঠাৎই মাঠে দর্শকদের চিৎকারে মুখরিত হয়ে উঠল “তামিইইইইম, তামিম। আরেক প্রান্ত থেকে মুশি, মুশি চিৎকার। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না সাকিব। মাঠের মাঝখানে বসেই দুই হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলেন। ক্রিকেটে এমন আবেগঘন মূহর্ত কেউ কখনো দেখে নি এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

গেইল, হোপ, হেটমায়ার রা সাকিবকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন কিন্তু সর্বাদা কঠিন মনের মানুষ সাকিবের কান্না যেন আজ থামবেই না। তবুও উঠে দাঁড়ালান। ভেজা চোখে বল না দেখে হলেন বোল্ড। বাংলাদেশ অলআউট ১৯৮ রানে। না আর পারছি না লিখতে। লিখা অসমাপ্ত রাখতেই হচ্ছে তবে সত্যি বলছি এমন কিছু যদি সত্যিই ঘটতো তাহলে হয়তো নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম। পাথর হয়ে যেতাম এতক্ষনে।

বিঃদ্র : লিখাটি একটি উদ্ভত মষ্তিষ্কের কল্পনা কেউ সিরিয়েসলি নিবেন না।

Smiley face

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here