যা ঘটেছিলো বাংলাদেশ টিমের সাথে? হামলাকারীর ছবিসহ!

50

নিউজিল্যান্ডে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুম্মার নামাজের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের টাইগাররা। হামলার সামান্য পরেই সেখানে পৌঁছার কারণে রক্ষা পেয়েছেন তারা। বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ওই মসজিদটিতে নামাজের জন্য পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই মুহুর্মুহু গুলি করে বহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ননা করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য তামিম ইকবাল। পুরো দলের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

অনুশীলন শেষ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ওই মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ে যান। কিন্তু মসজিদে প্রবেশের মুহুর্তে এক ব্যক্তি তাদের বাধা দেন। তিনি জানান, এখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

এসময় আতঙ্কিত খেলোয়াড়েরা দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফেরত আসেন। খেলোয়াড়দের সবাইকে মাঠের ভেতর থাকতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ক্রিকেটার তামিম ইকবাল টুইটে জানান, এটা তাদের জন্য ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ ছিল, বন্দুকধারীরা সেখানে হামলা চালিয়েছিল। পুরো দল বন্দুকধারীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবারের ওই হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন ও নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ কাউন্সিলের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যোগাযোগ হয়েছে। এ ঘটনার পর তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।শুক্রবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলন করার কথা থাকলেও এ ঘটনার পর ক্রিকেটাররা হোটেলে চলে গেছেন। বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, শনিবারের ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে কি না এই বিষয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মসজিদের হামলার এ ঘটনায়র একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি হামলাকারী নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মসজিদের বিভিন্ন প্রান্তে মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এক কোনায় প্রায় ১৫টি মৃতদেহ স্তূপ হয়ে রয়েছে। হামলাকারী তাদের কাছে গিয়ে মৃতদেহের ওপর মুহুর্মুহ গুলি চালাচ্ছে।

এদিকে মসজিদে হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। অনুশীলন শেষে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদে যান। কিন্তু তার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জুম্মার নামাজের সময় হঠাৎ করে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিলে গুলি চালাতে শুরু করে।

একজন প্রত্যাক্ষদর্শী বলেন, আমি দেখলাম লোকটি গুলি চালাচ্ছে। সম্ভব বহু মানুষ মারা গেছে। পুলিশ তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে নির্দয়ভাবে গুলি চালায়। এতে মসজিদের ভেতরেই বহু মানুষ নিহত হয়।

স্থানীয় টেলিভিশন টিভিএনজেড সাংবাদিক ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্যাম ক্লার্ক জানিয়েছেন, জুম্মার নামাজের সময় এক ব্যক্তি কালো পোশাক পরে মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি মসজিদে ঢুকেই গুলি চালানো শুরু করেন। হামলাকারীর মাথায় হেলমেট পরা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

স্যাম ক্লার্ক বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তি মসজিদের পেছন দিয়ে প্রবেশ করেন। তিনি হেলমেট পরা ছিল। সম্ভবত তার কালো জ্যাকেটটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হবে। মসজিদে ঢুকেই তিনি নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করেন।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনাকে কালো দিন আখ্যায়িত করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিন্ডা আরদেন বলেছেন, এটা অবশ্যই নিউজিল্যান্ডের জন্য কালো দিন।

ঘটনার অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী লেন পিনেহা বলেন, আমি ওই কালো পোশাক পরা লোকটিকে মসজিদে ঢুকতে দেখেছি। আর তিনি ঢোকার কয়েক মুহূর্ত পরেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে আমি সেদিকে লক্ষ করি এবং দেখলাম মানুষজন ছোটাছুটি করছেন। তিনি বলেন, দিকভ্রান্ত মানুষের ছোটাছুটির মধ্যে ওই লোকটিকেও আমি বের হয়ে যেতে দেখেছি। পরে আমি মসজিদের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম সর্বত্রই শুধু মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর দেশটির বিপক্ষে তৃতীয় ও সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুরে হামলার পর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ওই হামলায় কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হন। এতে তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

তবে, মসজিদে হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। অনুশীলন শেষে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ে মসজিদে যান। কিন্তু তার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রথমে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পরে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জুম্মার নামাজের সময় হঠাৎ করে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিলে গুলি চালাতে শুরু করে।একজন প্রত্যাক্ষদর্শী বলেন, আমি দেখলাম লোকটি গুলি চালাচ্ছে। সম্ভবত বহু মানুষ মারা গেছে। পুলিশ তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করছে।