রোনালদোও কি ফিরবেন?

34

জিদান সব সময়েই বলে এসেছেন, ক্লাবের ভালোর জন্যই তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন। এমনকি গতকাল আবার যখন রিয়ালে ফেরত এলেন, বলেছেন একই কথা। জিদান নিজে যা-ই বলুন, আসল ঘটনা হলো রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে দলবদল নিয়ে একমত না হতে পারার কারণেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন জিদান। জিদান চেয়েছিলেন গ্যারেথ বেলকে বিক্রি করে রোনালদোকে ঘিরে দল সাজাতে। আর ওদিকে পেরেজ ভেবেছিলেন রোনালদোর সময় শেষ, দল গঠন করা হোক বেলকে ঘিরেই। জিদান যাওয়ার নয় মাসের মধ্যেই দলের দুরবস্থা দেখে মতি ফিরেছে পেরেজের, বুঝিয়ে-সুজিয়ে দলে ফিরিয়েছেন জিদানকে। এখন প্রশ্ন হলো, রোনালদোও কি ফিরবেন?

গতকাল জিদানের সংবাদ সম্মেলনেও অবধারিতভাবে প্রশ্নটা উঠেছিল। আর তখন সকল জল্পনা-কল্পনায় এক রকম পানি ঢেলেছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি, ‘আমার মনে হয় এই বিষয় (রোনালদোর ফেরা) নিয়ে কথা বলার সময় এখন না। আমাদের এখনো লিগে ১১ ম্যাচ খেলতে হবে, আগে সে দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তারপর আমরা সামনের মৌসুম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা শুরু করব। আমরা ক্রিস্টিয়ানো সম্পর্কে জানি, ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন সে। কিন্তু আজকের দিনটি সেসব নিয়ে কথা বলার সময় না।’

ইঙ্গিতটা পরিষ্কার। রোনালদোকে রিয়ালের জার্সি গায়ে আবার দেখার আশা করে লাভ নেই। রিয়াল ছাড়ার পরে জিদান কার্যত বেকার ছিলেন। অন্য কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেননি। শুয়ে, বসে, খেলা দেখে কাটিয়ে দিতেন সময়। ফলে ‘বেকার’ জিদানকে ফিরিয়ে আনতে তেমন একটি।

কিন্তু এই কথাটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বেলায় আবার খাটে না। রোনালদো তো বেকার নন! উল্টো নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় বানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রোনালদোকে নিয়ে এসেছে জুভেন্টাস। রোনালদোকে ঘিরেই এখন জুভেন্টাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি তার দল সাজান। জুভেন্টাসে গিয়েও একই ভাবে আলো ছড়াচ্ছেন রোনালদো। ফলে চাইলেই রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে চলে আসবেন, এমন আশা করাটা বোকামি। তার ওপর রিয়াল সভাপতির সঙ্গেও রোনালদোর সম্পর্ক আগের মতো নেই। পেরেজের কাছে আগের মতো গুরুত্ব পান না দেখেই রিয়াল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোনালদো। রোনালদো বহু চেষ্টা করেও পেরেজকে বলে নিজের বেতন মেসি-নেইমারদের সমান করতে পারেননি।