Smiley face

কিছুদিন আগে আলোচনায় আসে কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা। এমন দুই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয় পরপর। ধর্ষক আখ্যা দিয়ে সবার গলায় ঝোলানো ছিল চিরকুট। এটা বিচারবহির্ভূত হত্যার নতুন ধরন কি না, সে আলোচনা সামনে আসে। সর্বশেষ ঘটনায় হারকিউলিসের নামে দায় স্বীকারের পর বিষয়টি বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার পায়। তবে হারকিউলিস শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ধর্ষণ মামলার আসামিকে হত্যার দায়িত্ব নেওয়া ‘হারকিউলিস’ কে বা কারা, তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পিরোজপুরের যে ধর্ষণ মামলার পর হারকিউলিস আলোচনায় এসেছে, সেই ঘটনায় অভিযোগকারী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি চিকিৎসকেরা।

এদিকে এই মামলার যে দুই আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়, তাঁদের একজন কাবিত ইসলাম ওরফে রাকিব মোল্লাকে (২০) ঢাকার অদূরে সাভার থেকে এবং আরেকজন ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে সজল জমাদ্দারকে (২৮) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। উভয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, যারা তুলে নেয় তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী এই দুজনকে তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেনি।

তবে ইশতিয়াক ওরফে সজলকে যে গাড়িতে করে তুলে নেওয়া হয়, এক অনুসন্ধানে সেই গাড়ি শনাক্ত করা গেছে। সাদা রঙের ওই পাজেরো গাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর সদর দপ্তরের নামে নিবন্ধিত। তুলে নেওয়ার আগে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুঠোফোনের মাধ্যমে দুজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, এমন আলামতও পাওয়া গেছে।

ইশতিয়াককে গত ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রামগামী একটি বাস থেকে ধরে নেওয়া হয়। দুই দিন পর তাঁর লাশ পাওয়া যায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার বেলতলা গ্রামে। লাশের গলায় ঝোলানো ছিল কম্পিউটারে লেখা চিরকুট। যাতে লেখা ছিল, ‘আমি… ধর্ষক, ইহাই আমার পরিনতি।’

কাবিত ইসলামকে সাভারের নবীনগর থেকে তুলে নেওয়া হয় ২৪ জানুয়ারি। এক সপ্তাহ পর তাঁর লাশ পাওয়া যায় নবীনগর থেকে ২৬০ কিলোমিটার দূরে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে। তাঁর গলায়ও ঝোলানো ছিল একইভাবে লেখা চিরকুট। তবে এই চিরকুটের শেষে হত্যাকারী হিসেবে লেখা ছিল ‘হারকিউলিস’।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে মানুষ হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মানবাধিকারকর্মীরা। ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘এই হারকিউলিস কোথা থেকে এল, কীভাবে এল? আমি মনে করি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে, পুলিশের দায়িত্ব বের করা, তারা কারা?’ এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। হারকিউলিস নামধারী ধর্ষণে অভিযুক্তদের হত্যাকারী যেই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করা হবে।’ এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, জানতে চাইলে গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা এখনো কাজ করছেন। কাজ শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এখন দেশের বাইরে। চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. নজরুল ইসলাম। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে তুলে নেওয়া এবং পরে লাশ উদ্ধারের বিষয়ে বলেন, এটা গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রকে এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বের করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারা এটা করেছেন, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।

Smiley face

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here