যেভাবে ধরা পড়েছিলো ভারতীয় পাইলট

3

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাকিস্তানিদের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন। পরে প্রাণ বাঁচাতে ধাওয়াকারীদের ভয় দেখাতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন তিনি।

অভিনন্দন যে গ্রামে ধরা পড়েন সেই গ্রামটির নাম হোরান। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্যে অবস্থিত গ্রামটি। ওই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজ্জাক চৌধুরী অভিনন্দনকে আটকে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন।

রাজ্জাক চৌধুরী পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডনকে বলেন, বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ শব্দ শুনতে পান এবং খেয়াল করে ধোঁয়া দেখতে পান। বুঝতে পারেন, আকাশযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তিনি লক্ষ করলেন, দুটো যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে গেছে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়, অন্যটি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে চলে যায়।

বিধ্বস্ত বিমানটি রাজ্জাকের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে পতিত হয়। তিনি দেখেন, প্যারাস্যুট দিয়ে কেউ একজন নেমে আসছেন। ওই ব্যক্তি প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে অবতরণ করেন।

রাজ্জাক জানান, প্যারাস্যুটে নামা লোকটিকে দেখে তিনি গ্রামের কয়েকজন তরুণকে দিয়ে সেখানে যান। তিনি ওিই পাইলটকে পাকড়াও করতে বলেন।

এসময় তরুণরা পাইলটকে লক্ষ্য করে ছোড়ার জন্য পাথরও তুলে নেন। তখন পাইলট তাদের ভয় দেখাতে পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয় এবং তাকে পাকড়াও করে নিয়ে যায়।

পাইলটকে সামরিক গাড়িবহরে করে ভিম্বরে একটি সেনা স্থাপনায় নেওয়া হয়। গাড়িবহরটি হোরান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই স্থাপনায় যখন যাচ্ছিল, স্থানীয় অনেকেই তখন ওই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় উল্লাস প্রকাশ করেন, স্লোগান দেন।