চলে গেল ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ প্রধানমন্ত্রীর শোক!

7

গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছোট-বড় সবার কাছে বই পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। সেই পলান সরকার আর বই বিলি করবেন না। শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে ৯৮ বছর বয়সে রাজশাহীর পবায় নিজবাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন পলান সরকার। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পলান সরকার ২০১১ সালে একুশে পদক পান। নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন তিনি।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে বিশ্বের ভিন্ন ভাষার প্রধান প্রধান দৈনিকে একই সাথে পলান সরকারের বই পড়ার এই আন্দোলনের গল্প ছাপা হয়। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাকে বহুবার সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটকও তৈরি হয়েছে তাকে নিয়ে।

বই পাগল মানুষ ছিলেন পলান সরকার। প্রতিবছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের যারা ১ থেকে ১০ এর মধ্যে মেধা তালিকায় স্থান পাবে, তাদের একটি করে বই উপহার দিতেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় তার বই বিলির অভিযান।

এরপরে সবাইকে বই দিতে থাকেন এই আলোর ফেরিওয়ালা। ডাক্তারি পরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর নিজেই হেঁটে হেঁটে বই বিলি করতেন। একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে করেছেন এই কাজ। রাজশাহী অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম জুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বই পড়ার এক অভিনব আন্দোলন।

পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালে। তার আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে পলান সরকার নামেই তাকে চেনে দেশের মানুষ। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। অভাবের সংসারে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় ইতি টেনেছেন। তবে নিজের চেষ্টাতেই চালিয়ে যান লেখাপড়া। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন তিনি।