অনিয়মে নিমজ্জিত মাদারীপুর সদর হাসপাতাল

2

নানা অনিয়মে নিমজ্জিত মাদারীপুর সদর হাসপাতাল। এখানকার কোনো কার্যক্রমই নিয়ম অনুযায়ী করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে এক মতবিনিময় সভায়। বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুর নতুন শহরের টিআইবি কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার সংবাদমাধ্যমকর্মীরা সদর হাসপাতালের দুর্নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে টিআইবিকে এ বিষয়ে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় আলোচনা করা হয় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। আবার কেউ কেউ প্রতারিত হচ্ছেন নানাভাবে। এ সময় টিআইবির মাদারীপুর জেলার সভাপতি খান মো. শহীদসহ অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর হাসপাতালে সরকারিভাবে যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ থাকার কথা সেই পরিমাণ ওষুধ নেই, যা আছে রোগীরা তাও পাচ্ছে না ঠিক মতো। শুধু ওষুধ নয়, ২৪ ঘণ্টা গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান থাকার কথা থাকলেও দুই থেকে তিনঘণ্টা এই সুবিধা মিলছে। এছাড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবায় অবহেলারও অভিযোগ মিলছে বারবার। এদিকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া নেয়ার হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক মনির হোসেন বিলাস বলেন, সদর হাসপাতালে রোগীরা কি কি ওষুধ পেতে পারেন তার বিস্তারিত বর্ণনা সিটিজেন চার্টারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে যে সেবাটুকু পাওয়ার কথা তাও পাচ্ছে না।

আক্তার হোসেন বাবুল বলেন, সদর হাসপাতালের আরএমও দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে ও একই পদে বহাল থাকায় এই দুর্নীতি থামছে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

আবুল হাসান সোহেল অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শশাঙ্ক ঘোষ সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও তিনি তা থাকেন না। তিনি আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখছেন, যা নিয়মের বহির্ভূত।

জহিরুল ইসলাম খান বলেন, হাসপাতালে দিনের বেলায় কিছু পরিমাণ ওষুধ দেয়া হলেও রাতের বেলায় দেয়া হচ্ছে না। ফলে বাহির থেকে ওষুধ ক্রয় করে আনতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর মৃত্যুও হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (টিআইবি) মাদারীপুরের সভাপতি খান মো. শহীদ বলেন, সদর হাসপাতালের এসব বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। যাতে শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. ফরিদ হোসেন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীদের ঠিকঠাক মতো চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া হাসপাতালেও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। নিয়ম মেনেই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে।