Smiley face

কয়েক ঘণ্টা পরই ভিয়েতনামে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে মুখোমুখি হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। দু’দিনব্যাপী সম্মেলনে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

বৈঠক নিয়ে উৎসাহী ট্রাম্প জানান, সমতার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য প্রস্তুত উত্তর কোরিয়া। বৈঠকের সাফল্য কামনা করে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভিয়েতনামে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরদিন সকালে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন ফু ত্রংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ভিয়েতনামের সমৃদ্ধিতে উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প দেশটিকে উত্তর কোরিয়ার জন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভিয়েতনামে বৈঠক আয়োজন করায় কিম জং উন এবং আমি খুবই খুশি। সফল একটা বৈঠকের প্রত্যাশা করছি। দেখা যাক কি হয়। কিম ভালো কিছু করতে চাচ্ছেন। আমার মনে হয়, উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে অনেক উদ্যোগ নিতে রাজী তিনি।’

ট্রাম্প পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ডোংড্যাং সীমান্ত দিয়ে হ্যানয়ে আসেন কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস পরিদর্শন করেন তিনি। দু’নেতার বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোরীয় উপদ্বীপকে পরামাণু অস্ত্রমুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

সম্মেলনের ডামাডোলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ১৯ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে, চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণেরও দাবি জানান তারা। এদিন সিনেটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপ-কমিটির শুনানিতে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন কূটনৈতিক বিল রিচার্ডসন বলেন, ‘সিঙ্গাপুর বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার পরামণু কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন। আশা করি ভিয়েতনাম বৈঠক থেকে কোরীয় উপদ্বীপকে স্থানীয়ভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে।’

এ অবস্থায় দু’পক্ষকেই উদার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, ‘শুধু চীন নয়, পুরো বিশ্ব প্রত্যাশা করছে, দু’নেতা আলোচনার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবেন। হ্যানয় সম্মেলনের সফলতা কামনা করছি আমরা।’

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় সম্মেলনের প্রথম দফা বৈঠক করবেন ট্রাম্প-কিম। পরে দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে নৈশভোজে অংশ নেবেন তারা। সম্মেলনে দ্বিতীয় দিনে আলোচনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্প-কিম। বৈঠকের পর বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প ভিয়েতনাম ছাড়বেন। শনিবার ভিয়েতনাম থেকে উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন কিম জং উন।

Smiley face

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here