প্রথম পর্যায়ের গতিময় উচ্ছেদ অভিযানের পর একই গতিতে এগিয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৮৬৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুই পর্ব মিলিয়ে মোট উচ্ছেদ হয়েছে ২ হাজার ৮৪৬টি স্থাপনা। আর এর মধ্য দিয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের প্রায় ৬১ একর জায়গা অবমুক্ত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযানের ২৪তম দিন অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ কার্যদিবসের উচ্ছেদ শেষে এ তথ্য জানান বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন।

আজ মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় সিন্নিরটেক থেকে গড়ান চটবাড়ী এলাকা পর্যন্ত তুরাগ নদীর উভয় তীরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি একতলা পাকা স্থাপনা, তিনটি আধাপাকা, পাঁচটি সীমানাপ্রাচীর ও ৩৫টি টিনের ঘর ছিল।

নদীর জায়গা দখলের অপরাধে গড়ান চটবাড়ীর নেভারল্যান্ড পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। সিন্নিরটেকে ৩টি বালির গদি অপসারণসহ গড়ান চটবাড়ী এলাকার নেভারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর পার্ক দুটির দখল করা তীরভূমির অংশ অবমুক্ত করে বিআইডাব্লিউটিএ।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক জানান, ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের দুই পর্যায়ে মোট ২৪ কার্যদিবসে বুড়িগঙ্গা নদীর কামরাঙ্গীর চর, খোলামোরা ঘাট থেকে ধারাহিকভাবে তুরাগ নদের গড়ান চটবাড়ী পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার এবং বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেলের অংশের ৩ কিলোমিটারসহ মোট ২২ কিলোমিটার নৌপথের উভয় তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানের প্রথম পর্যায়ে বিটিসিএল ভবন, সংসদ সদস্যের স্থাপনা, দুদকের আইনজীবীর স্থাপনাসহ বেশ কিছু রাঘববোয়ালের স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডাব্লিউটিএ। প্রথম দিকে বাধার মুখে পড়লেও উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আমিন-মোমিন হাউজিং। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল হাউজিং। প্রতিটি স্থাপনা উচ্ছেদে সাহসিকতার পরিচয় দিতে হয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও রাজউকের মতো কিছুদিন উচ্ছেদ করে আবার আগের দশায় ফিরে যাবে বিআইডাব্লিউটিএ- সাধারণ মানুষের এমন ভাবনাকে বদলে দিয়েছে সংস্থাটি। প্রথম পর্যায়ের সাহসী ভূমিকার পর দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানও ছিল সাহসী ও গতিময়। নদীর জায়গা দখল করে ভূমিদস্যুদের গড়ে তোলা আরো ১ হাজার ৮৬৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ১২ কার্যদিবসের অভিযানে। এর মধ্যে ৩৯০টি পাকা স্থাপনা, ৪২১টি আধাপাকা ও ১৭১টি সীমানাপ্রাচীর রয়েছে।

দুই পর্যায়ের অভিযান শেষে মোট ২ হাজার ৮৪৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে ২২ কিলোমিটার নদী তীরভূমির ৬১ একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জরিমানার মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। উচ্ছেদের সময় ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার কয়লা, নির্মাণসামগ্রী ও কাঠ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক।

এদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলেও থামছে না উচ্ছেদ কার্যক্রম। ৯ এপ্রিল থেকে তুরাগের গড়ান চটবাড়ী এলাকা থেকে শুরু হয়ে আপস্ট্রিমে তুরাগের অবশিষ্ট অংশ এবং বালু নদীর তীরভূমিতে বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক।

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত অভিযানের পর তীরভূমি সংস্কার করে দশ হাজার সীমানা পিলার স্থাপনের কথা রয়েছে। এরপর নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে দিতে নদীতে ড্রেজিং করার কথা জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদী তীরভূমি অংশ সংরক্ষণ এবং ঢাকাবাসীর জন্য নদীকে বিনোদনের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়। এর মধ্যে নদীর পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সবুজায়ন, লাইটিং এবং ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here